আপডেট : ৯ মে, ২০১৬ ২১:১০
ধোঁকা দিয়ে নিষিদ্ধ পপি চাষ

পুলিশের চার্জশিটে ফাঁসলেন বর্গাচাষি, মূল হোতা নির্দোষ!

বিডিটাইমস ডেস্ক
পুলিশের চার্জশিটে ফাঁসলেন বর্গাচাষি, মূল হোতা নির্দোষ!

রংপুরের বদরগঞ্জের আলোচিত সেই নিষিদ্ধ পপি চাষের ঘটনায় ধোঁকা খাওয়া বর্গাচাষি দরিদ্র মোকছেদুল আলমকে ‘ফাঁসিয়ে’ অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ। অথচ যিনি বর্গাচাষিকে ধোঁকা দিয়ে পপি চাষ করালেন, সেই জমির মালিক শফিউল ইসলাম ওরফে খোকা মেম্বারকে চার্জশিটে ‘নির্দোষ’ উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল আদালতে এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন বদরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এ কে এম নুরুল ইসলাম।

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাঁচ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ঘটনার মূল হোতা শফিউল ইসলাম ওরফে খোকা মেম্বারকে নির্দোষ উল্লেখ করে চার্জশিটে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৫ মার্চ ‘কৃষককে ধোঁকা দিয়ে নিষিদ্ধ পপি চাষ!’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হলে নড়েচড়ে বসে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ। তারা ওই দিনই উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সোনারপাড়া এলাকায় গিয়ে পপিক্ষেত শনাক্ত করে তা ধ্বংস করে। এ সময় পুলিশ বর্গাচাষি মোকছেদুল আলমকে ধরে নিয়ে আসে। বদরগঞ্জ থানার এসআই তৈয়ব আলী সরকার বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য আইনে বর্গাচাষি মোকছেদুল আলম ও জমির মালিক শফিউল ইসলাম ওরফে খোকা মেম্বারকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ ওই ক্ষেত থেকে এক হাজার ২১৬টি পপিগাছ উদ্ধার করে। এর মধ্যে পাঁচটি ফুলসহ পপিগাছ রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় এগুলো নিষিদ্ধ পপি ফল।

এসআই তৈয়ব আলী সরকার এজাহারে বলেছিলেন, জমির মালিক খোকা মেম্বার নিজে জেনেশুনেই বর্গাচাষি মোকছেদুল আলমকে দিয়ে নিষিদ্ধ পপির বীজ লাগিয়েছিলেন। এগুলো কিসের বীজ মোকছেদুল তা জানতে চাইলে খোকা মেম্বার তাঁকে বলেছিলেন, ‘এগুলো মূল্যবান ফসল। এটা তোমার জানার প্রয়োজন নেই।’ অথচ মামলার ৪৫ দিনের মাথায় তদন্ত করে নিষিদ্ধ পপি চাষের হোতা খোকা মেম্বারের নামই চার্জশিট থেকে বাদ দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) এ কে এম নুরুল ইসলাম।

এর আগে পপি চাষের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের যৌথ বেঞ্চের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. খশরুজ্জামানের দৃষ্টিগোচর হয়। তাঁরা স্বপ্রণোদিত হয়ে সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ১৭ জন কর্মকর্তাকে রুল জারি করেন। রুলে আদেশ দেওয়া হয়, ১৫ দিনের মধ্যে আর কোথায় কোথায় পপি চাষ হচ্ছে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

মামলার বাদী এসআই তৈয়ব আলী সরকার বলেন, ‘আমি বাদী হয়ে মামলা করলেও তদন্ত করেছেন ওসি (তদন্ত)। তিনি তদন্ত করে যা সত্য পেয়েছেন, তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন দিয়েছেন।’

চার্জশিট থেকে নাম প্রত্যাহারে ঘুষের অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে ওসি (তদন্ত) এ কে এম নুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকৃত জমির মালিক শফিউল ইসলাম খোকা মেম্বারের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে চার্জশিটে তাঁকে নির্দোষ উল্লেখ করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে বদরগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘চার্জশিট দেওয়ার বিষয়টি আমার পুরোপুরি জানা নেই। তবে এর দায়িত্ব ওসির (তদন্ত) ওপর ছিল।’

সূত্র : কালের কণ্ঠ

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে