আপডেট : ২৬ জুন, ২০২০ ১৯:৫৪
নারায়ণগঞ্জে

বাড়িতে থেকেই ৫০ ভাগ করোনা রোগী সুস্থ

অনলাইন ডেস্ক
বাড়িতে থেকেই ৫০ ভাগ করোনা রোগী সুস্থ

নারায়ণগঞ্জ জেলার কোনো বাসিন্দা অন্য কোনো জেলায় প্রবেশ করেছে এটা শুনলেই শুরু হয় আতঙ্ক। কারণ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ করোনার হটস্পট, এপি সেন্টার ও রেড জোন। অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ প্রায় দেশের ৩২টি জেলায় করোনার বিস্তার ঘটিয়েছে।

কিন্তু সুখবর হলো এই জেলায় আক্রান্তদের অর্ধেক অর্থাৎ ৫০ ভাগ-ই এখন করোনামুক্ত। আর করোনামুক্ত হয়েছেন বেশীর ভাগ আক্রান্ত ঘরে আইসোলোশনে থেকেই।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুক্রবার পর্যন্ত ইতোমধ্যেই জেলায় ৪ হাজার ৯২৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ১১০ জনের আর সুস্থ হয়েছেন ২৪৭১ জন। এতে দেখা যায়, আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হবার সংখ্যা পুরো আক্রান্তের প্রায় ৫০ শতাংশ। সুস্থরা এখন স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।

জানা যায়, আক্রান্তের দিক থেকে জেলাটি ঢাকার পরেই শীর্ষস্থানে। করোনার হটস্পট খ্যাত হয়ে উঠেছিল নারায়ণগঞ্জ। কিন্তু সুস্থ হবার দিক থেকে সবার আগে এগিয়ে এ জেলাটি। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে জেলার আক্রান্তরা। তবে এর মধ্যে চলে গেছে ১১০টি আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাণ। এ ছাড়াও অনেক ব্যক্তি করোনার উপসর্গে মারা গেছেন জেলায় যাদের পরবর্তীতে আর টেস্ট করানো হয়নি। কিন্তু কিভাবে সুস্থ হচ্ছেন করোনা আক্রান্তরা!

এ বিষয়ে প্রায় ১৮৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা মানবতার সংগঠন “এহসান পরিবার জানিয়েছে চাঞ্চল্যাকর তথ্য। এই পরিবারটি জেলায় এ পর্যন্ত করোনা রোগীসহ ৮৩ জন মৃতের লাশ দাফন করেছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে এহসান পরিবারকে দায়িত্ব দেয়া হয় করোনায় আক্রান্তদের ৩ হাজার ও মৃতদের ৫ হাজার টাকা রোগীদের সামনে গিয়ে দিয়ে আসতে। সাহসী এই পদক্ষেপটি বাস্তায়ন করেছে পরিবারটি।

এ বিষয়ে এহসান পরিবারের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াহিদ বলেন, জেলা প্রশাসনের দায়িত্বটি ছিল করোনা রোগীর কাছে অনুদারের টাকা পৌঁছে দিয়ে তার স্বাক্ষর নিয়ে আসা। আমরা এ পর্যন্ত ১৮৭ জন রোগীর সংস্পর্শে গিয়েছিলাম। তারা কিভাবে সুস্থ হয়েছেন তা জানতে চাইলে বেশীর ভাগ রোগী জানিয়েছেন, গরম পানির গারগিল। আদা লবঙ্গ লেবু দিয়ে প্রচুর গরম পানি পান, পানি গরম করে ভাপ ও সাধারণ জ্বর ঠান্ডা কাশির ওষুধ সেবন। আর অব্যশই পরিবারের অন্য কেউ যেন আক্রান্ত না হয় সে লক্ষ্যে ঘর থেকে নিজেকে আলাদা রাখা।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, করোনায় জেলায় মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক মানুষ ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়েছেন। তাদের সিংহভাগই বাড়িতে থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তবে যাদের শ্বাসকষ্ট বা নানা জটিল উপসর্গ ছিল তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, বিশাল সংখ্যক রোগীকে দিক নির্দেশনা দিতে প্রতিদিন টিম করে আমাদের ফোন রিসিভের মাধ্যমে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, করোনার শুরু থেকেই দেশের প্রথম আক্রান্ত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের ইতালি ফেরত দুই ব্যক্তি। তারা যদিও সুস্থ হয়েছেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে