আপডেট : ১ এপ্রিল, ২০১৬ ১২:৫২

ভারত-উন্ডিজ ম্যাচের পর ফেসবুকের নির্বাচিত কিছু স্ট্যাটাস!

পরাগ মাঝি
ভারত-উন্ডিজ ম্যাচের পর ফেসবুকের নির্বাচিত কিছু স্ট্যাটাস!

সাম্প্রতিক সময় গুলোতে বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে এক ধরণের ভারত বিদ্বেষী মনোভব তৈরী হয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন- এর কারণ, ক্রিকেটে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকটি সীমিত ব্যাবধানে হার! অনেকে মনে করেন, এসব হারের নেপথ্য কারণ রয়েছে। তাই কেবল ভারত নয়, বরং ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিও বাংলাদেশী দর্শকদের রোশানলে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ওয়েস্ট-ইন্ডিজ জিতে যাওয়ার পর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে তার ব্যপক প্রভাব পড়ে। তাদের বেশিরভাগই ভারতের হারকে সেলিব্রেশন করেছেন। যেমনটি করেছেন, বাংলাদেশী উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহমানও।

বাছাই করা কয়েকটি স্ট্যাটাস-

রেডিও মুন্না (ফেসবুক পেজ): ‘ভিরাটের ফিনিশিং কখনই ভালো হয়না, খাটেও না, মাঠেও না ...আবার প্রমাণ করে দিলো।’ - আনুশকা শর্মা

রাসেল রায়হান (কবি): জীবিত রাসেলদের মধ্যে আমার পরে সবচে যোগ্য হইলো আন্দ্রে রাসেল!

হাবিবাহ নাসরীন (সাংবাদিক, লেখিকা): ‌সে রা‌তে ক‌ষ্টে ঘু‌ম আ‌সে‌নি, আজ খুশি‌তে...!

ইপন শামসুল (গায়ক, কবি, মিডিয়কির্মী): ইন্ডিয়া হেরে গেছে মাম্মা/ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য চুম্মা!

আর কে মৃদুল (ঔপন্যাসিক): আগে পাকিস্তান হারলে মজা লাগতো
এখন ইন্ডিয়া হারলে আরো মজা লাগে!!
একেবারে মজা বাইয়া বাইয়া পড়ে!

ওহ্ ওয়েস্টইন্ডিজ! তোমরা এত্ত ভালা কেন?
ভুম ভুম ইন্ডিয়া! ভুম ভুম ইন্ডিয়া!

মিঠু পাল (সাংবাদিক):

স্থান : ভারতের ড্রেসিংরুম

গাভাস্কারঃ বন্ধুগন হার জিত বড় নয়,, তোমরা সবাই খেলতে পারছো এইডাই বড়....

ধনিঃ (মনে মনে) হালারপুতে কয় কি! ঢিলা তো মারবে আমার বাড়ি...

বিরাটঃ গাভাস্কার কাক্কু, আমি কত রান করছি আইজকা?

গাভাস্কারঃ আনুস্কারে জিগা,,আমারে জিগাস ক্যা?

বিরাটঃ আপনি দেহেন নাই খেলা?

গাভাস্কারঃ না!

বিরাটঃ তয় কি দেখলেন এতোক্ষন?

গাভাস্কারঃ নায়লা নাইমের স্টাটাস...
তার নাক ফাটছে,,দোয়া চাইছে সবার কাছে

বিরাটঃ নায়লা নাইম কে?

গাভাস্কারঃ বাংলাদেশী মডেল

বিরাটঃ ও,,, ফোন নাম্বার আছে?

গাভাস্কারঃ আসলেই তুই একটা ছাগল! অত বড় স্টারের নাম্বার পামু কই?
আমি তার ফলোয়ার্স....

আহমেদ স্বপন মাহমুদ (কবি): বাংলাদেশের লগে মরতে মরতে বেঁচে যাওয়া ভারত শেষঅব্দি মরেই গেল! দু:খ ফর ইন্ডিয়া! এন্ড চিয়ার্স ফর ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সরোজ মাহাদী (সাংবাদিক, তুরস্কে অধ্যয়নরত): যত ওয়েস্টেন্ডিজইয়ান রমনী আছ আজ থেকে তোমরা সবাই আমার প্রেমিকা। আহা কালোতে কি যে আলো!

অমিত হাসান (ছাত্র ও কবি/জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়): এতদিন পর বুঝতে পারলাম কেন কলম্বাস ইন্ডিয়া আবিষ্কার করতে গিয়ে ওয়েষ্ট- ইন্ডিজ আবিষ্কার করেছিল।
লোকটারে বটতলায় এখন খাওয়াতে ইচ্ছা হচ্ছে।

আবু দায়েন (শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়): ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখেই বোঝা যায়, রাষ্ট্রীয় নীতি খুব কম ক্ষেত্রেই নাগরিক-মনের প্রতিনিধিত্ব করে!

হুসাইন আজাদ (সাংবাদিক): অনেক বেশি দৌঁড়ানোর কারণে পেটে ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন। তবু দৌঁড়ান, দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। আবারও দৌঁড়ান। এই ভদ্রলোকের নাম মহেন্দ্র সিং ধোনি। তিনি যখন রান নেন, মনে হয় বুলেট ছুটছে। আমার চোখে দেশ ও দলের প্রতি তার কমিটমেন্টের জায়গায় এক ছুঁতোও ফাঁক নেই। আজকের খেলায় বিরাট কোহলির সঙ্গে তার ২৭ বলের পার্টনারশিপ। এরমধ্যে ১১ বার নিয়েছেন সিঙ্গেল। অর্থাৎ এই ১১ বার দৌঁড়াতে হয়েছে তাকে। ৭ বার নিয়েছেন ডাবল অর্থাৎ দুই রান করে। টি-টোয়েন্টির মতো ম্যাচে ডাবল নেওয়া কতোটা কষ্টসাধ্য তা দর্শকমাত্রই বোঝেন। কেবল তাই নয়, ভীষণ ক্লান্ত হওয়া সত্ত্বেও মিস ফিল্ডিংয়ের সুবাদে শেষ দিকে ৩ রানও নিয়েছেন ধোনি-কোহলি।

যে ক্যাপ্টেন যে খেলোয়াড়ের এমন কমিটমেন্ট থাকে, তাকে অপছন্দ করবেন কী বিবেচনায়? ভারতের ক্রিকেট-প্রশাসকদের নোংরামিতে আমরা দলটির বিরোধিতা করতে চাই, কিন্তু ধোনিরা আমাদের কোমল নজর কেড়ে নেন।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে বিরাট কোহলির নামটাও ডিকশনারিতে আলাদা করে যুক্ত করতে হচ্ছে। এই দু’জন আমার অপছন্দের। কিন্তু তাদের খেলায় মুগ্ধ না হয়ে পারি না।

তাহমিম বারী শাওন (ব্যাংকার): অবশেষে প্রাণ খোলে হাসতে পারলাম। কালকে গরুর মাংস বাধ্যতামূলক.....!

ঘাস ফুল (কবি): গেইল ফেইল মারছে এবং ওয়েস্টইন্ডিজ পাশ করছে...।
আনন্দিত, পুলকিত, অভিভূত...! কারনটা বলার আর কী দরকার....!

* শচীন মাঠে ছিল,শুধু তার জন্য একটু দু:খিত হয়েছি...দ্য হিরো এভার।

আরাফাত নোমান (ছাত্র, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়): বাংলাদেশি পোলাপানের স্ট্রেস কিভাবে ম্যানেজ করতে হয় ওইটা শিখতে হবে। লুকায়া প্রেম করা-বিয়ের টাইমে পালায়া যাওয়া থেকে শুরু করে ভুল বলে ছয় মারতে যাইয়া আউট হওয়া - সবই স্ট্রেসের লক্ষণ!

অভিনন্দন ওয়েস্ট ইন্ডিজ! ইউ লার্ন্ড ফ্রম বাংলাদেশ বাই নট ফলোয়িং দেম!

রিক রশিদ (শিক্ষক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়): ইত আনন্দ লাগছে কিনু!

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে