আপডেট : ১৬ এপ্রিল, ২০১৬ ১৭:০৯

শুভ জন্মদিন চার্লি!

অনলাইন ডেস্ক
শুভ জন্মদিন চার্লি!

চার্লি চ্যাপলিন। নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে একজন অভিনেতার চঞ্চলতা থেকে শুরু করে হাসানো দৃশ্য পর্যন্ত এক অদ্ভুত জাদুকরী মানুষের চেহারা। তবে তাকে শুধু অভিনেতা বললে ভুল হবে। পরিচালনা, সংলাপ, সঙ্গীত পরিচালনা, প্রযোজক সব গুণেই যেন গুণান্বিত ছিলেন এই ব্রিটিশ চলচ্চিত্র অভিনেতা। আর আজ ১৬ এপ্রিল সেই বিখ্যাত মানুষের জন্মদিন। এক সময়ের পর্দা কাঁপানো এই অভিনেতার অভিনয়ে মুগ্ধ সারা বিশ্বের সবাই মনে করেন আজও তিনি বেঁচে আছেন সবার হৃদয়ে। তাই তো তিনি বেঁচে না থেকেও আজ একশো সাতাশ বছরের যুবক সবার কাছে। তার প্রত্যেক ছবিতেই তিনি এক চঞ্চল যুবকের প্রতিরূপ।

স্যার চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিন ১৬ই এপ্রিল, ১৮৮৯ সালে ইষ্ট স্ট্রিট, ওয়ালওয়ার্থ, লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। চার্লি চ্যাপলিনের কোনো বৈধ জন্ম প্রমাণপত্র পাওয়া যায়নি, তাই তার জন্ম নিয়ে ধোয়াশা রয়েছে। সংবাদ মাধ্যম নানা সময়ে নানা রকম তথ্য দিয়েছে তার জন্মস্থান সম্পর্কে। এমনকি তার চলচ্চিত্র জীবনের প্রথমদিকে চ্যাপলিন নিজেও একবার বলেছেন যে তিনি ফ্রান্সের ফঁতেউব্ল শহরে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।

চ্যাপলিনের শৈশব কাটে প্রচণ্ড দারিদ্র্য আর কষ্টের মাঝে আর তাই হয়তো তিনি উপলদ্ধি করতেন দেওয়া ও পাওয়াতে কী আনন্দ। তিনি একটা কথা প্রায়ই বলতেন যে বৃষ্টিতে হাঁটা খুবই ভালো কারণ এই সময় কেউ তোমার চোখের অশ্রু দেখতে পায় না। অত্যধিক দারিদ্রই চ্যাপলিনকে শিশু বয়সেই অভিনয়ের দিকে ঠেলে দেয়। তার মা-বাবা দুজনেই মঞ্চের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তাই এই পেশাতে আসাটাই তাঁর কাছে সহজ ছিল। চ্যাপলিন সেইসময়ের জনপ্রিয় লোকদল ‘জ্যাকসন্স এইট ল্যাঙ্কাসায়ার ল্যাডস’ এর সদস্য হিসাবে নানা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এরপর ১৪ বছর বয়সে তিনি উইলিয়াম জিলেট অভিনিত শার্লক হোমস নাটকে কাগজওয়ালা বিলির চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সুবাদে তিনি ব্রিটেনের নানা প্রদেশে ভ্রমণ করেন ও অভিনেতা হিসাবে তিনি যে খুবই সম্ভাবনাময় তা সবাইকে জানিয়ে দেন।

চ্যাপলিন অভিনীত মুখ্য চরিত্র তাঁর নিজের সৃষ্ট ভবঘুরে দ্য ট্রাম্প, ১৯১৪ সালে। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগালে ‘শার্লট’ নামে পরিচিত চ্যাপলিনের ট্রাম্প ভবঘুরে হলেও বিট্রিশ ভদ্রজনোচিত আদব-কায়দায় সুসংস্কৃত এবং সম্মানবোধে অটুট। শার্লটের পরনে চাপা কোট, সাইজে বড় প্যান্ট, বড় জুতো, মাথায় বাউলার হ্যাট, আর হাতে ছড়ি।

চ্যাপলিনের বর্ণময় ব্যক্তিজীবন তথা সমাজজীবন খ্যাতি – বিতর্ক দুইয়েরই নিম্ন থেকে শীর্ষবিন্দু ছুঁয়ে গেছে। তাছাড়া নারী, প্রেম, সম্পর্ক নিয়ে বেশ জমজমাট ছিল চার্লির নিজের জীবনের চিত্রনাট্য। চারবার বিয়ে করেছিলেন চ্যাপলিন। প্রথমবার ২৯ বছর বয়সে। বিয়ে করেছিলেন মাইল্ডরেড হ্যারিসকে। কিন্তু সে বিয়ে বেশিদিন টেকেনি। তারপর লিটা গ্রেকে বিয়ে করেন চ্যাপলিন। তখন তাঁর বয়স ৩৬। আর লিটার বয়স ১৬। সালটা ১৯২৪। কিন্তু ১৯২৭ সালের মাঝামাঝি ডিভোর্স হয়ে যায় তাদের। তবে চ্যাপলিনের স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শোনা যায় যার কথা, তার নাম পোলেট গদার। লিটা গ্রের সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পরের ঘটনা। ১৯৪২ সালে তাদেরও ডিভোর্স। ৫৪ বছর বয়সে আবার বিয়ে করেন চ্যাপলিন। স্ত্রীর নাম উনা ও’নেইলউনার তখন বয়স মাত্র ১৮।এতো গেল শুধু স্ত্রীদের কথা। এছাড়াও প্রেমিকা সংখ্যা গুনে শেষ করা যাবে না চার্লির। প্রেম, বিয়ে, বিচ্ছেদ নিয়ে বেশ ভালোই জীবন কাটিয়েছেন চার্লি।

সবশেষে ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্সারে মারা যান চার্লি চ্যাপলিন। শেষ হয় চলচ্চিত্র জগতের একটি অধ্যায়। সবকিছুর পরেও বিশ্ব জুড়ে এখনও চার্লির জনপ্রিয়তা রয়েছে। বেঁচে নেই তিনি কিন্তু তার অভিনীত চলচ্চিত্র গুলো আজও উপভোগ করে যাচ্ছেন সিনেমাপ্রেমী মানুষরা। হলিউড সিনেমার প্রথম থেকে মধ্যকালের বিখ্যাততম শিল্পীদের একজন মনে করা হয় চ্যাপলিনকে। চ্যাপলিনকে চলচ্চিত্রের পর্দায় শ্রেষ্ঠতম মূকাভিনেতা ও কৌতুকাভিনেতাদের একজন বলেও মনে করা হয়। চলচ্চিত্র শিল্প জগতে চ্যাপলিনের প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য। চার্লির জন্মদিনে তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখা হয়েছে, Happy birthday, Charlie! 127 years young…

উপরে