আপডেট : ১৪ এপ্রিল, ২০১৬ ১০:২২

বার্সেলোনাকে হারিয়ে শেষ চারে অ্যাথলেটিকো

খেলাধুলা
বার্সেলোনাকে হারিয়ে শেষ চারে অ্যাথলেটিকো

বার্সেলোনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠেছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। এ হারে শেষ চারের আগেই চ্যাম্পিয়ন লিগ থেকে বিদায় নিতে হলো মেসি-নেইমারদের।

কাম্প নউতে বার্সেলোনা জিতেছিল ২-১ গোলে। নিজেদের মাঠে অঁতোয়ান গ্রিজমানের জোড়া গোলে আনন্দের জোয়ারে ভাসে অ্যাথলেটিকো।

প্রথমার্ধের বলের দখল বেশি ছিল বার্সেলোনার কাছেই। কিন্তু আক্রমণে বেশি উঠেছে অ্যাথলেটিকো। তবে প্রথম আধ ঘণ্টায় গোলের খুব ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। সপ্তম মিনিটে ক্রস থেকে হেড করেছিলেন গ্রিজমান, কিন্তু বল ঠেকাতে সমস্যা হয়নি বার্সেলোনার গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনের।

৩৩তম মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পেয়ে ক্রসবারের উপর দিয়ে মারেন গত চার ম্যাচে গোলের দেখা না পাওয়া মেসি। তিন মিনিটে পরই প্রয়োজনীয় গোলটি পেয়ে যায় অ্যাথলেটিকো। সাউল নিগেসের দারুণ ক্রসে বিনা বাধায় লাফিয়ে হেডে গোল করেন গ্রিজমান।

ম্যাচের এই ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ সমতা থাকলেও ফের্নান্দো তরেসের অ্যাওয়ে গোলে শেষ চারে উঠতো অ্যাথলেটিকোই। গোলের জন্য তাই ঝাঁপিয়ে পড়ে অতিথিরা। ৪১তম মিনিটে নেইমার দূর থেকে শট নিয়েছিলেন। তবে ডান দিকের উপরের কোণায় মারা বল ধরে ফেলেন গোলরক্ষক ওবলাক।

প্রথমার্ধে বলের ৭৩ শতাংশ দখল ছিল বার্সেলোনার কাছে। কিন্তু মেসি-নেইমার-সুয়ারেস ত্রয়ী জ্বলে না ওঠায় গোলের বড় কোনো সম্ভাবনা তৈরি করতে পারনি বার্সেলোনা।

দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া বার্সেলোনাকে ঠেকাতে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক খেলে স্বাগতিকরা। বার্সেলোনা এই সুযোগে একের পর এক আক্রমণ চালালেও 'এমএসএন' এদিনও ছিলেন ব্যর্থ। 

৬১তম মিনিটে উল্টো পাল্টা আক্রমণে বল নিয়ে উঠে এসে শট নিয়েছিলেন গ্রিজমান। ঠেকাতে কোনো সমস্যা হয়নি টের স্টেগেনের। ৬৬তম মিনিটে ইনিয়েস্তার বাড়ানো বল ধরে সুয়ারেসের জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন ওবলাক।

ম্যাচের শেষ দিকে গ্রিজমানের উদ্দেশে বাড়ানো ফেলিপে লুইসের পাস ঠেকাতে গিয়ে ডি-বক্সে বলে হাত লাগিয়ে দেন বার্সেলোনা অধিনায়ক ইনিয়েস্তা। পেনাল্টি থেকে গোল করে সমর্থকদের আবারও উচ্ছ্বাসে মাতান গ্রিজমান। ঠাণ্ডা মাথায় নেওয়া শট টের স্টেগেন ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে আঙুল ছোঁয়াতে পারলেও জালে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি।

এ মৌসুমে দারুণ ফর্মে থাকা ফরাসি ফরোয়ার্ড গ্রিজমানের গোল হলো ২৯টি।

শেষ মুহূর্তে যোগ করা সময়ে ডি-বক্সের ভেতর বলে হাত লাগিয়েছিলেন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের অধিনায়ক গাবিও। কিন্তু রেফারি পেনাল্টি না দিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ফ্রি-কিকের নির্দেশ দেন। মেসি পারেননি সেখান গোল করে খেলাটাকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে। বল চলে যায় ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে।

এ নিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ গোলশূন্য থাকলেন মেসি। সেই সঙ্গে শেষ হলো টানা দ্বিতীয়বার বার্সেলোনার 'ট্রেবল' জয়ের স্বপ্নও।

 

বিডিটাইমস৩৬৫/এএ 

উপরে