আপডেট : ৭ এপ্রিল, ২০২১ ১০:৪৯

শপিংমল বন্ধঃ মার্কেট খুলবে কিনা সিদ্ধান্ত হবে আগামীকাল

এম শাহজাহান
 শপিংমল বন্ধঃ মার্কেট খুলবে কিনা সিদ্ধান্ত হবে আগামীকাল

লকডাউনের সময় মার্কেট শপিংমল ও বিপণিবিতান খুলে দেয়ার বিষয়ে আপাতত কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার কারণে আপাতত প্রথম সাতদিন মার্কেট খুলে দেয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অর্থনীতির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আগামী সপ্তাহ নাগাদ এ বিষয়ে ‘ইতিবাচক’ সিদ্ধান্ত দিতে পারে সরকার। এক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি নিজ উদ্যোগে কঠোরভাবে পরিপালন করতে হবে ব্যবসায়ীদের। পহেলা বৈশাখ ও ঈদ সামনে রেখে লকডাউনের সময় মার্কেট ও শপিংমলগুলো খুলে দেয়ার দাবি রয়েছে ব্যবসায়ীদের। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মার্কেট ও শপিংমলের ব্যবসায়ীরা এ লক্ষ্যে আন্দোলন করে আসছেন। তবে করোনা পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের ধৈর্যধারণ ও সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, লকডাউনের বিষয়টি আবার রিভিউ-‘পুনর্মূল্যায়ন’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।। কাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আবার বৈঠক করার কথা রয়েছে। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে বলেন, লকডাউন বিষয়ে বৃহস্পতিবার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া লকডাউনের প্রথম সাতদিন শেষ হবে আগামী ১১ এপ্রিল রবিবার। নির্দিষ্ট ওই সময়ের আগে লকডাউন বহাল থাকবে না উঠে যাবে সেই ঘোষণাও দেয়া হবে। তবে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে মার্কেট, শপিংমল ও বিপণিবিতাণ চালু করে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে।

ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোন কিছু জানানো হয়নি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দীন বলেন, মার্কেট ও শপিংমল খুলে দেয়ার দাবি রয়েছে সারাদেশের ব্যবসায়ীদের। সমিতির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে। এছাড়া আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সমিতি। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চলছে কিন্তু এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আশা করছি, সামনে পহেলা বৈশাখ ও ঈদের বেচাকেনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে মার্কেট ও শপিংমল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন সারাদেশের মানুষ। লকডাউনের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে তেমন কোন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না নগরবাসীকে। এ কারণে দ্রুত সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় মার্কেট ও শপিংমল চালু করা হলে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিপালন করতে হবে। অন্যথায় করোনা পরিস্থিতি আরও দ্রুত অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাঁচাবাজারসহ রাজধানীর বেশিরভাগ দোকানপাট চালু রাখা হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে বাজারগুলোতে। ব্যবসায়ীরা বলছে, পহেলা বৈশাখ ও ঈদ উৎসবের বেচাবিক্রির জন্য সারাবছর ব্যবসায়ীরা মুখিয়ে থাকেন। গত বছর করোনার কারণে বেচাবিক্রি হয়নি। এবারও মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ রাখা হলে ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হবে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোঃ জাফর উদ্দীন বলেন, মার্কেট ও শপিংমল খুলে দেয়ার দাবির বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। কিন্তু এটার বিষয়ে যে কোন সিদ্ধান্ত হতে পারে লকডাউন রিভিউ সংক্রান্ত বৈঠকে। এর বাইরে কারও সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নেই। তিনি বলেন, এখন সাতদিনের লকডাউন চলছে।

জানা গেছে, মার্কেট খুলে দেয়ার দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীর নিউমার্কেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্ষোভে অংশ নেয়া ব্যবসায়ীরা দিনের নির্দিষ্ট একটা সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখার দাবি জানান। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের বিধিনিষেধের কারণে এসব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আসাদুজ্জামান নামে গাউছিয়া মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলেন, সরকার ভাবুক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না টিকলে দেশও টিকবে না। আমরা নির্দিষ্ট একটা সময় মার্কেট খোলা রাখতে চাই। রমজানে দোকান খোলা না থাকলে কী হবে, জানি না। গত বছরের ক্ষতিই পুষিয়ে উঠতে পারিনি। এবারও যদি মার্কেট বন্ধ রাখতে হয় তাহলে পথে বসে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।

জানা গেছে, করোনার দ্রুত সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের দেয়া বিধিনিষেধে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। এবারের বিধিনিষেধে কলকারখানা খোলা রাখার সুযোগ দেয়া হলেও বিপণিবিতান, রেস্তরাঁ, সবজি বিক্রেতাসহ কম পুঁজির ব্যবসায়ীদের ওপর তুলনামূলক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

উপরে