আপডেট : ২৮ জুলাই, ২০২০ ১৭:৪১

ট্রাম্পের দেওয়া বেকার ভাতা সিলেটে বসে তুলে মৌজ ফুর্তি

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের দেওয়া বেকার ভাতা সিলেটে বসে তুলে মৌজ ফুর্তি
নিউইয়র্কের বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যকশন হাইট এলাকা

সিলেটে বসবাস করছেন তিনি। কিন্তু আমিরিকার নাগরিক। অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশে। ট্রাম্প সরকার করোনা কালিন সময়ে যে বেকার ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেন সে সময়ে তিনি সিলেটেই। আমেরিকায় বসবসারত ভাইয়ের মাধ্যমে আবেদন করেন বেকার ভাতার। এবং পেযেও যান। প্রত্যেক সপ্তাহে তার ব্যাংকে জমা হতে থাকে ৬০০ ডলার করে। আর সিলেটে কার্ডের মাধ্যমে টাকা তুলে দেদারছে মাস্তি করছেন তিনি। কিন্তু ফেসে গেছেন যখন তিনি অনলাইনে লগইন করে স্টেটমেন্ট চেক করেন তখন। দেশটির শ্রমবিভাগ বুঝতে পারে ওই ব্যক্তি বিদেশ থেকেই বেকার ভাতা নিচ্ছে। শুধু এই একটি ঘটনা না ।বাংলাদেশি আরও অনেক ঘটনা পেয়েছে শ্রমবিভাগ। এরমধ্যে আছে মৃত মানুষের নামে টাকা উত্তোলন, আছে চাকরি করেও বেকার ভাতা তোলাসহ নানা অপকর্ম।

স্বামী-স্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ২০১৮/২০১৯ অর্থ বছরের ট্যাক্স ফাইল করেছেন। এরমধ্যেই একজন মারা যায়। কিন্তু টাকা জয়েন্ট একাউন্টে জমা পড়ে আর ওই  মৃত ব্যক্তির টাকা উত্তোলন করে খরচ  করা হয়েছে কিন্তু বিষয়টি আইআরএসকে জানানো হয়নি। মৃত ব্যক্তির নামে প্রাপ্ত চেকও ক্যাশ করেছেন অনেকে। আইআরএস এর নজরে আসায় তারা এখন মহাবিপদে। জরিমানাসহ সমুদয় অর্থ ফেরত দিতে হচ্ছে তাদের।

ব্রঙ্কসে বসবাসরত সবুজ নামের এক বাংলাদেশি করোনা শুরুর প্রথম দিকে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির শেষে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। জীবন জীবিকার প্রয়োজনে চালাতেন উবার ও লিফট। স্টিমুলাস প্যাকেজ কংগ্রেসে পাস হবার পর ও নতুন নীতিমালার আলোকে সুযোগ পান বেকারভাতার জন্য আবেদনের। লেবার ডিপার্টমেন্টে ওপেন করেন আনএমপ্লয়মেন্ট একাউন্ট। আমেরিকায় বসবাসরত ভাইকে দিয়ে সবুজ আনএমপ্লয়মেন্টের আবেদন করেন। ফেডারেলের ৬০০ ডলারসহ স্টেট থেকে প্রতি সপ্তাহে সবুজের একাউন্টে জমা হতে থাকে ৮০০ ডলার। সিলেটে বসে সবুজ চৌধুরী ব্যাংক/ ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ইচ্ছামতো অর্থ খরচ করতে থাকেন। আর নিউইয়র্কে বসে ভাই তার পক্ষে প্রতি সপ্তাহে রোববার আনএমপ্লয়মেন্ট রিসার্টিফাই করেন। দেশে বসেই সবুজ খোশ মেজাজে অনলাইনে নিউইর্য়ক স্টেটের ওয়েবসাইডে লগ ইন করে তার অর্থের খতিয়ান দেখতেন। ‘গ্লোবাল জিপিএস’ সিস্টেমে ধরা পড়ে যায় সবুজের অবস্থান। তদন্তে নেমে পড়ে লেবার ডিপার্টমেন্ট। তার ক্রেডিট কার্ডের ট্রানজিকশনও হাতে আসে তদন্তকারীদের। চিঠি আসে সবুজের বাসায়। লক করে দেয়া হয় সবুজের আনএমপ্লয়মেন্ট একাউন্ট। সবুজের টনক নড়ে তখন। ভাই নিউইর্য়ক থেকে টেলিফোনে জানান, লেবার ডিপার্টমেন্ট এর চিঠির কথা। দ্রুত নিউইয়র্কে ছুটে আসেন সবুজ। এ ঘটনায় ভাইও বিপদে। ফাইনসহ প্রায় ১০ হাজার ডলার ফেরত দেওয়ার চিঠি পেয়েছেন সবুজ। পরামর্শ নিতে ছুটে যান তিনি ল’ইয়ারের অফিসে। আইনজীবীকেও দিতে হবে উপায় বাতলে দেওয়ার ফিস।

উল্লেখ্য, বিদেশে (কানাডা ব্যতিত) অবস্থান করে কেউ বেকারভাতা গ্রহণ /আবেদন আইন বর্হিভূত। আমেরিকা ত্যাগ করার আগে বেকারভাতা গ্রহণকারীদের অবশ্যই লেবার ডিপার্টমেন্টকে জানাতে হবে। তাহলে বিদেশ থেকে ফেরার পর আবার বেকারভাতা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এদিকে বেকারভাতা গ্রহণ করে অনেকেই গোপনে ক্যাশে কাজ করছেন। যা কিনা লেবার ডির্পামেন্টের আইন বিরুদ্ধ। এসব ঘটনায়ও ফেঁসে গেছেন আনেকেই। এ কারণে আমেরিকায় বাংলাদেশিদের সম্মান ধুলায় লুটাচ্ছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে