আপডেট : ৬ জুলাই, ২০২০ ১৮:৪১

মোদীর ভাষণে গুরুত্বপূর্ণ ইশারা, চীনের কপালে ভাঁজ

অনলাইন ডেস্ক
মোদীর ভাষণে গুরুত্বপূর্ণ ইশারা, চীনের কপালে ভাঁজ

জুলাই মাসের ৩ তারিখে হটাৎ করেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাদাখ সফর ও সেখানে তার আক্রমণাত্মক বক্তব্য চীনের কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় জুন মাসের ১৫ তারিখে ২০জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পর মোদীর এই লাদাখ সফর বেশ তাৎপর্যপুর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেখানে মোদীর বক্তব্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অত্যন্ত উন্ধদ্ধ করেছে। ছিল চীনের প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইশারা।  করোনা ভাইরাস পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতির দৃষ্টি নিজেদের দিকে আনতে মোদী কোন চেষ্টার ত্রুটি করছেন না। নাম না বলে চীনের বিরুদ্ধে তিনি চীনের আগ্রাসী নীতির কথা তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন এটি এখন উন্নয়নের যুগ। এসময়ে যারাই আধিপাত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছে যারাই আগ্রাসী হয়েছে সে শক্তি হয় হেরে গেছে নয়তো পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে । মোদির একটি বাক্য বেশ প্রশংসা পেয়েছে তার দেশে ও দেশের বাইরে। তার কথা ছিল ‘দুর্বলরা কখনো শান্তি আনতে পারে না । পারে সবলেরা’ এ বক্তব্য আশেপাশে

২১ টি দেশের সঙ্গে সীমানা সংঘাতে লিপ্ত  চীনের প্রতি একটা কৌশলি আঘাত। । এই কৌশলে আঘাত বা টেকনিক্যাল স্ট্রাইকের পরও চীন এবং তার অনুগত সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমগুলো নিরব। শুধু ৩ জুলাইয়ের বিকেলে চীনা বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছিলেন, দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে কথাবার্তা চলছে এবং কোন পক্ষে সমস্যাকে জটিল করা বা বাড়িয়ে দেওয়ার উচিত নয়। অথচ এই চীন ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পরদিন পি এল এর মুখপাত্র ঝাং শিউলিকে দিয়ে বলানো হয়েছিল যে গালওয়ান চিরদিনই চীনের ছিলো। চীনের বিদেশমন্ত্রণালয় তখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিবৃতি দেন । চীনের এই আগ্রাসন বা উগ্রতা নরেন্দ্র মোদির লাদাখ সফরের পর কেমন যেন চুপসে গছে। ভারত ৫৯টি চীনা অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়ার পরও কোনো বিবৃতি আসেনি চীনের তরফ থেকে। শুধু বিদেশমন্ত্রণালয় বলেছে ভারত যেন এই ধরনের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন কানুন মেনে চলে যাতে বিদেশী ও চীনা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। চীন একটি দৃঢ় ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ঠিকই কিন্তু মোদীর লাদাখ সফর চীনের সেচ্ছাচারি কাজগুলো সামনে চলে দিয়েছে। গত পনেরো দিনে ভারতের নেওয়া বিভিন্ন কার্যকলাপ, সামারিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামাজিক চীনকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে ভারতও ব্যবস্থা নিতে জানে এর আগে ভারত কখনো হংকংয়ের সম্পর্কে মন্তব্য করেনি। কিন্তু সম্প্রতি পাশ হওয়া একটি আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে সেখানে হংকংয়ের মানুষের নাগরিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাজীব চন্দ্র বলেছেন ভারত হংকংয়ের পরিস্থিতির নজর রাখছে ভারত লাদাখে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে চীনকে চিন্তায় ফেলেছে ও চীনের সুবিধেজনক অবস্থাকে প্রতিহত করতে চাইছে। চীনের কোম্পানিগুলোর ভারতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় রেল চীনের যন্ত্রপাতি নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের সার্ভিস আপগ্রেড টেন্ডার থেকে চীনা কোম্পানিগুলোকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। ভারতের সড়ক পরিবহন মন্ত্রনালয় ও বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয় চীনা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বন্ধ করেছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যও ভারত সরকারের পথ অনুসরন করছে। সাংহাই টানেল ইজ্ঞিনিয়ারিং কোম্পানিকে দিল্লি-মীরাট আর টিএস করিডোর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছে। এই কোম্পানি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সব কম দর নিয়েছে। মহারাষ্ট্র চীনের কোম্পানিগুলোর পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাতিল করেছে। এর মধ্যে পুনেতে গ্রোট ওয়াল মোটরস এর কারখানাও আছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ছাড়াও ভারত কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধিতে অনেক এগিয়ে গেছে। ২৭শে জুন ভারতীয় নৌবাহিনী জাপানের নৌবাহিনীর সঙ্গে ভারত মহাসাগরে মহাড়া দিয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি রাশিয়া সফরে গিয়ে অত্যাধনিক মিসাইল ও যুদ্ধ বিমান ক্রয় ও পুরোনো বিমানের স্কোয়াড্রন আধুনিকরণ ইত্যাদি চুক্তি করে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পুতিনের সঙ্গে এ মাসের দুই তারিখে কথা বলেছেন ও পুতিন তাকে দু’দেশের স্ট্র্যাজেটিক পার্টণারশিপ এর ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। ওদিন পহেলা জুলাই আমেরিকার সেক্রেটারি অফ স্টেস ভারতের ৫৯ টি চীনা অ্যাপকে নিষিদ্ধ করাকে সমর্থন করেছেণ। এই ব্যাপারে যে টুইটগুলি হয়েছে: চীনের সঙ্গে সংঘাত চলাকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাদাখ ও ফরোয়ার্ড এরিয়া সফর এটাই প্রমাণ করে যে ভারত কোন অবস্থায় চীনকে লাদাখ অঞ্চলে সুবিধেজনক অবস্থায় আসতে দিবে না । ভারত সামারিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক সব ক্ষেত্রে চীনকে চ্যালেঞ্জ করবে’” ” ভারত বিশ্বকে এটাই বলতে চায় যে দরকার হলে সে একাই চীনের মোকাবেলা করবে। মোদী চীনকে নিন্দা করার পর বল এখন বিশ্ব রাজনীতির কোটে

উপরে