আপডেট : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১০:০৩
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ

ইনডেক্সধারীদের আবেদন নয়, বদলির ব্যবস্থা করা হোক

অনলাইন ডেস্ক
ইনডেক্সধারীদের আবেদন নয়, বদলির ব্যবস্থা করা হোক

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) দেশজুড়ে বেসরকারি স্কুল, কলেজে ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে শীঘ্রই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। এই গণবিজ্ঞপ্তির জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছেন লক্ষাধিক নিবন্ধিত চাকরি প্রত্যাশি। তবে এনটিআরসিএর ভুল পদক্ষেপে এদের অধিকাংশেরই চাকরি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

আগের মতো এবারও লাখ লাখ নতুন চাকরিপ্রত্যাশী নিবন্ধনধারীর সঙ্গে এনটিআরসিএর হাজার হাজার ইনডেক্সধারীদেরও (যারা এনটিআরসিএ থেকে ২০১৬ ও ২০১৮ সালে দুটি গণবিজ্ঞপ্তিতে মেধাতালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে নিয়োগ পেয়েছে এবং চাকরি করছে) আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে নতুনদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোটায়।

এ ব্যাপারে এনটিআরসিএ কয়েকদিন আগে ইনডেক্সধারীসহ ১-১৫ তম সব নিবন্ধনধারীর জাতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করেছে। প্রশ্ন হলো, ইনডেক্সধারীদের কেন বারবার আবেদনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে? মূলত বিগত দুটি গণবিজ্ঞপ্তিতে মেধাতালিকার ওপরের দিকে (লিখিত নম্বর বেশি) থাকার সুবাদে তাদেরই বারবার চাকরি হয়েছে তথা বদলির সুযোগ হয়েছে।

দুটি গণবিজ্ঞপ্তি (২০১৬ ও ২০১৮ সালে) থেকে ধারণা করা হয়, ইনডেক্সধারীর সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি। আসন্ন গণবিজ্ঞপ্তিতেও যদি তাদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয় (বদলি হওয়ার জন্য!), তাহলে লিখিত নম্বর বেশি থাকার কারণে তাদেরই আবার চাকরি হবে। এর ফলে একজন ইনডেক্সধারী চাকরিরত প্রতিষ্ঠান বদল (আবেদনে নতুন প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়ার কারণে) করার কারণে তার পদটি স্বাভাবিকভাবে শূন্য হবে। বাস্তবে ইনডেক্সধারীদের এই প্রতিষ্ঠান ওদল-বদল প্রক্রিয়ায় শূন্য পদ শূন্যই থাকছে, ঐ বছর আর পূরণ হচ্ছে না। বেকাররা বেকারই থেকে যাচ্ছে।

ইনডেক্সধারীদের এভাবে বারবার আবেদনের সুযোগ না দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো তাদের বদলির ব্যবস্থা করা যেত। এতে স্বাভাবিকভাবে নতুন নিবন্ধনধারীদের দিয়ে ঐ শূন্যপদ পূর্ণ হয়ে যেত এবং চাকরিপ্রত্যাশী হাজার-হাজার বেকার নিবন্ধনধারীদের কর্মসংস্থান হতো। 

মূলত ইনডেক্সধারীদের আবার আবেদনের ফলে নতুনসহ আগের নিবন্ধনধারী (যাদের এখনো চাকরি হয়নি) চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক প্রার্থীর চাকরি হবে।

২০১৮ সালের গণবিজ্ঞপ্তিতে এই সুযোগ রাখার ফলে নতুন নিবন্ধনধারীদের খুব কম সংখ্যক প্রার্থীর চাকরি হয়েছিল। ধারণা করা হয়, এনটিআরসিএ পুরাতন ইনডেক্সধারীদের আবেদনে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে বদলি হওয়ার সুযোগ দিতে এই পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন! এককথায়, এই পদ্ধতি ইনডেক্সধারীদের জন্য পৌষমাস আর নতুন চাকরিপ্রত্যাশী নিবন্ধনধারীদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।

ধরা যাক, একজন ইনডেক্সধারী গণবিজ্ঞপ্তিতে আবার আবেদন করে নিজের পছন্দসই জায়গায় বদলি হচ্ছেন। তার মানে বদলি হওয়ার সুযোগ আছে বা করা হচ্ছে। তাহলে আবেদনে টাকার বিনিময়ে কেন, ইনডেক্সধারীদের একটা বদলি নীতিমালা করলেই তো হয়।

এনটিআরসিএ গণবিজ্ঞপ্তির সময় প্রত্যেকবার বলে থাকেন, এই বছর এত এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, এটা আসলে শুভংকরের ফাঁকি! আসলে আবেদনে ইনডেক্সধারীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়ার ফলে তাদেরই বারবার চাকরি ও চাকরি বদল করার সুযোগ হয়, নতুনদের খুব সংখ্যক প্রার্থীর চাকরি হয়। তাই চাকরিরত মেধাবী ইনডেক্সধারীদের মেধাতালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত, কেননা তারা তো চাকরি করছেই। 

এছাড়া ইনডেক্সধারীদের বদলির জন্য দ্রুত নীতিমালা করা দরকার। কেননা নতুনদের বেশি সংখ্যক প্রার্থীর কর্মসংস্থান না করে আবেদনের মাধ্যমে ইনডেক্সধারী পুরাতনদের বারবার নিয়োগের এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা উচিত। বেকার সমস্যা সমাধানে এর কোন বিকল্প নেই। 

এভাবে ইনডেক্সধারীদের বারবার আর সুযোগ নয়—মেধাতালিকা অনুযায়ী নতুন ও বেকার নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশীদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হোক। ইনডেক্সধারীদের বদলি নীতিমালা তৈরি করে তাঁদের বদলির ব্যবস্থা করা হোক। তাহলেই বেকাররা চাকরি পাবে, আবার ইনডেক্সধারীরাও তাঁদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ পাবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে