আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০১৮ ১৯:৪৬

বাড়িতে চুরি হলে অবশ্যই যে কাজগুলো করতে হবে !

অনলাইন ডেস্ক
বাড়িতে চুরি হলে অবশ্যই যে কাজগুলো করতে হবে !

পৃথিবীর যে কোনো স্থানে, যে কোনো সময় মালিকের অলক্ষ্যে ঘরে হতে পারে চুরি। যদিও আমরা কেউই-ই চাই না যে এমন একটি ব্যাপার আমাদের কারো সাথে ঘটুক। কিন্তু বিপদের কথা তো কেউ আগাম বলতে পারে না, তাই না? বিপদ যেহেতু জানান দিয়ে আসে না, তাই অতি অবশ্যই রাখা উচিৎ অগ্রিম প্রস্তুতি। অর্থাৎ, জেনে রাখা উচিৎ যে এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা আপনার সাথে হলে কী কী করতে হবে আপনাকে।

চলুন তবে জেনে নেয়ে যাক :

প্রথমেই পুলিশ:

বাড়িতে চুরি হয়েছে, এমনটা আবিষ্কার করতে পারলে প্রথম করণীয় হচ্ছে পুলিশে খবর দেয়া। চিন্তায় অস্থির হয়ে বা কান্নাকাটি করে কোন লাভ নেই। কেউ এই মুহূর্তে আপনার উপকারে আসবে না পুলিশ ছাড়া। চুরি যাওয়া সামগ্রী ফিরে পান বা না পান, একটা চেষ্টা তো করাই যায়। তাই না? তাই প্রথমেই পুলিশে ফোন করুন।

ছবি তুলুন ঝটপট:

পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত কিচ্ছুতে হাত দেবেন না বা কিছুই এদিক-সেদিক করবেন না। চোরের আঙুলের ছাপ বা কোন এভিডেন্স নষ্ট করে ফেলতে পারেন নিজের অজান্তেই। তাছাড়া পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত ক্রাইম সিনে কিছুতে হাত দিতে নেই। এই ফাঁকে বরং ছবি তুলে ফেলুন। একাধিক ছবি তুলুন, বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে তুলুন। এই ছবি পরে পুলিশের কাজে লাগবে, আপনারও তালিকা তৈরি করতে সুবিধা হবে।

তালিকা তৈরি করুন:

পুলিশে তো খবর দিয়েছেন? এবার তাহলে ঠাণ্ডা মাথায় তালিকা তৈরি করুন। আপাত দৃষ্টিতে কী কী চুরি গিয়েছে বলে মনে হচ্ছে সেগুলোর একটা লিস্ট বানিয়ে ফেলুন। কোন কোন জিনিসের ইন্সুরেন্স করানো আছে, কোন কোন জিনিসের মানি রিসিট আছে সেগুলো মনে করার চেষ্টা করুন। কারণ পুলিশ এগুলো চাইতে পারে। দামী জিনিসের মানি রিসিট প্রয়োজন পড়বেই আপনার।

ইন্সুরেন্স ক্লেইম করুন:

বাড়ির যেসব জিনিসপত্রের ইন্সুরেন্স করা, সেটা যত দ্রুত সম্ভব ক্লেইম করুন। ঘটনাস্থলেই তাদের প্রতিনিধিরা এসে পড়তে পারলে আরও ভালো। সময় নষ্ট না করে যোগাযোগ করুন। 

এবার বাসার দিকে মনোযোগ দিন:

থানা-পুলিশের ঝামেলা মিটে গেলে এবার নিজের ঘরের দিকে মন দেবার পালা। নতুন করে আবার গোছাবেন, ক্ষয়ক্ষতি সামলে ওঠার চেষ্টা তো অবশ্যই করবেন। কিন্তু সেটার চাইতেও জরুরী হচ্ছে বাসার নিরাপত্তা জোরদার করা। অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিন এবং বাসার নিরাপত্তা এমন করুন যে দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা আর না ঘটে।

নিজেকে সামলে নেয়াও জরুরী:

বলাই বাহুল্য যে চুরি হওয়া মানে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি। কেবল আর্থিক নয়, মানসিক ক্ষতিও। ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে আমাদের এমন অনেক জিনিস থাকে যা অমুল্য। তাই রাতারাতি ক্ষোভ মনের থেকে মিটে যাবে সেই আশা না করাই ভালো। নিজেকে সময় দিন, আস্তে আস্তে মুছে যাবে সব ক্ষত।

কিছু ঘটার পর প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধ করা অনেক ভালো। সামনে লম্বা ঈদের ছুটি। তাই সময় থাকতে এখনই নিজের বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করুন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে