আপডেট : ৮ নভেম্বর, ২০১৬ ১৭:২৮

৯০ দিনের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

বিডিটাইমস ডেস্ক
৯০ দিনের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সুউচ্চ ভবন আগামী ৯০দিনের মধ্যে ভাঙার নির্দেশনাসহ দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি প্রকাশ করা হয়। এখন আপিল বিভাগে রায়ের পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করতে পারবে বিজিএমইএ।

রিভিউ আবেদন খারিজ হলে আদালতের রায়ে অবৈধ বলে চিহ্নিত ১৮তলা বিশিষ্ট বিজিএমইএ ভবনটি চূড়ান্তভাবে ভেঙেই ফেলতে হবে।

আইন লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠার বিষয়টি উল্লেখ করে স্বপ্রণোদিত হয়ে জারি করা এক রুলের রায়ে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবনটিকে অবৈধ ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার নির্দেশনা দেন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই বছরের ৫ এপ্রিল বিজিএমইএ’র আবেদনে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরবর্তী সময়ে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ান সর্বোচ্চ আদালত।

এর দুই বছর পর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের ৬৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে বিজিএমইএ। এরপর বিজিএমইএ’র আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ। সেইদিনই আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করার কথা জানিয়েছেন বিজিএমইএ’র নেতারা।

পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে এ মামলার অ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে আইনি সহায়তাকারী) আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রিভিউ আবেদন না করা হলে ৯০ দিনের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে হবে। আর রিভিউ আবেদন করলে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে তা করতে হবে। তবে রিভিউতে ফল পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যে সকল বিচারপতিরা রায় দেন রিভিউয়ে তারাই রায়ে কোন বড় ধরনের খুঁত আছে কিনা সেটি দেখেন।

৯০ দিনের মধ্যে ভবনটি ভাঙার পর নির্মাণের আগে ওই স্থানের জমি যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় ফিরিয়ে এনে জনকল্যাণে ব্যবহারে নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট তার রায়ে বলেছিলেন, হাতিরঝিল প্রকল্প একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। বিজিএমইএ যাদের কাছে ওই ভবনের ফ্ল্যাট বা অংশ বিক্রি করেছে তাদের টাকাও ফেরত দিতে হবে। রায়ে আরও বলা হয়, দেশের অন্য দশজনের মতো এই আর্থিক পেশিশক্তির অধিকারী লোকেরাও দেশের সাধারণ আইনের আওতাধীন। সংবিধান অনুযায়ী ধনী-দরিদ্রের মধ্যে আইনের প্রয়োগের ব্যাপারে কোনও বৈষম্য চলতে পারে না’।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে  

  

উপরে