আপডেট : ২ আগস্ট, ২০২০ ১৭:৪৭

নির্দিষ্ট সময়ে ২ সিটির কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
নির্দিষ্ট সময়ে ২ সিটির কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে ঢাকার দুই সিটি (উত্তর ও দক্ষিণ) করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মীরা কাজ করছেন। ঈদের দিনের সব বর্জ্য প্রতিশ্রুত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হয়েছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিনও রোববার (২ আগস্ট) অনেকে কোরবানি দিচ্ছেন। এদিনও নগরীর বিভিন্ন স্থানে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।

দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের দিনের সব বর্জ্য অপসারণের জন্য গভীর রাত পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করেছেন। ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম মোতাবেক দুই সিটির সব কোরবানির বর্জ্য অপসারণে আমরা সক্ষম হয়েছি। ঈদের দ্বিতীয় দিনও নগরীর বিভিন্ন স্থানে পশু কোরবানি হচ্ছে। এতে নতুন করে আবার বর্জ্য জমছে। এসব বর্জ্য পরিষ্কারেও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে নগরীকে দুর্গন্ধমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে নগরবাসীকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। নিজেরা সচেতন হলে ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহযোগিতা করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের কোরবানি সব বর্জ্যও অপসারণ করা সম্ভব হবে।

এদিকে, রোবরার রাজধানী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কোরবানির বর্জ্য নেই। করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ভ্যান নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সব বর্জ্য সংগ্রহ করে অঞ্চলভিত্তিক কেন্দ্রীয় ডাস্টবিনে এনে ফেলছেন। সেখান থেকে বর্জ্যগুলো ট্রাকে করে অপসারণের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আমিন বাজারে অবস্থিত বর্জ্যের ডিপোতে।

অপরদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঈদের পরদিন পশু কোরবানি করে অনেকেই বর্জ্যগুলো বিক্ষিপ্তভাবে রাখছেন। এছাড়া রাজধানীর মাতুইয়াল মেইন রাস্তা, দোলাইপাড়, ছুটিটোলা স্কুলের সামনের মূল সড়কে, লালবাগ এলাকার বিভিন্ন জায়গায় কিছু কিছু বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে সেগুলো অপসারণের জন্য করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন বলেন, ঈদের দিনের সব বর্জ্য গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণভাবে অপসারণে সক্ষম হয়েছি। প্রথমদিনে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সব এলাকায় আট হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য হয়েছে। ঈদের রাতেই সব অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে কিছু জায়গায় বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সেগুলো অপসারণে কাজ চলছে।

দক্ষিণের ১২, ২২ নম্বর ওয়ার্ডসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পশু কোরবানি হচ্ছে রোববার। এতে নতুন করে তৈরি হওয়া বর্জ্য আশা করছি, সন্ধ্যার মধ্যে অপসারণ করা সম্ভর হবে। নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন থাকার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। সবাই সচেতন হলে নগরী সুন্দর হবে, যোগ করেন তিনি।

এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-১ এ অবস্থিত বর্জ্যের মূল ডাস্টবিনে সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকে একের পর এক ময়লার ভ্যানভর্তি বর্জ্য নিয়ে সেখানে ফেলছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।

করপোরেশনের ময়লার ট্রাকচালক রহিম বলেন, আমরা গত দিন থেকে বর্জ্য নিয়ে আমিনবাজার ডিপোতে স্থানান্তর করছি। গতকাল দিন-রাত সিটি করপোরেশনের ১০টি ট্রাক ৬২টি ট্রিপে এসব বর্জ্য অপসারণের কাজ করেছে।

অঞ্চল-১ এর ডাস্টবিন দেখা শোনার দায়িত্বে থাকা ফরিদ বলেন, এবার করপোরেশেনের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য ফেলার জন্য একটি করে ব্যাগ দেওয়া হয়। সবাই ওই ব্যাগে করে বর্জ্য বাগির সামনে রেখেছিলেন। পরিচ্ছন্নতা করামীরা তা সহজে সেগুলো সংগ্রহ করে এখানে নিয়ে আসেন।

সবাই আরও সচেতন হলে আমরা যারা পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করি, তাদের আরও সহজ হতো। তবে এবার আমরা দ্রুতই বর্জ্য অপসারণ করতে পেরেছি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এম সাইদুর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে পেরেছি। গভীর রাত পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করেছেন। এছাড়া দ্বিতীয় দিনে অনেক স্থানে পশু কোরবানি হচ্ছে, সেখানেও বর্জ্য তৈরি হয়েছে। আসা করছি, সেগুলো সন্ধ্যার মধ্যে অপসারণ করা সম্ভব হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে