আপডেট : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০১:২৪
চীন কী বাংলাদেশের বন্ধু!!!!

৭ দিনের মধ্যে ‘হতাশা’ থেকে ‘দুঃখ প্রকাশ’ চীনের

অনলাইন ডেস্ক
৭ দিনের মধ্যে ‘হতাশা’ থেকে ‘দুঃখ প্রকাশ’ চীনের

বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উপহার পাঠানোর পর এ নিয়ে সরকারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে ঢাকায় চীনা দূতাবাস। গত ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিনের প্রাক্কালে চীন দূতাবাস তাঁকে উপহার পাঠিয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে খোঁজ খবর করা শুরু করে ।  এতে বিপাকে পরে উপহার পাঠানোর ঘটনায় চীন দূতাবাসের কর্মকর্তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

ঢাকায় সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্রগুলোও গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চীনা দূতাবাস কর্মকর্তাদের দাবী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করা এবং এর রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার বিষয়ে জানতেন না। তবে সারা বিশ্বে চীনের নীতি হলো সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং সেই নীতি তাঁরা অনুসরণ করে আসছেন। জন্মদিনে নেতাদের উপহার হিসেবে তাঁরা ফুল পাঠিয়ে থাকেন। তবে যেহেতু খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ নিয়ে ‘স্বীকৃত বিতর্ক’ রয়েছে, তাই তাঁরা আগামী দিনে এই বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। এভাবেই বিবৃতি দিয়েছে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস। এর আগে গত ৩১ আগস্ট করোনা  মেকাবেলায় তাইওয়ানের দেওয়া  চিকিৎসা সামগ্রীর বিষয়ে “গভীর হতাশা” প্রকাশ করেছিল এই দূতাবাসটি।

প্রসঙ্গত, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দিন ১৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কয়েক বছর আগে ১৫ আগস্ট জন্মদিন হিসেবে পালন করা শুরু করেন। বিভিন্ন সময় তাঁর চারটি জন্মদিন আলোচনায় এসেছে। এগুলো হলো ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট, ১৯৪৭ সালের ১৯ আগস্ট, ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ও ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট।

এর আগে বাংলাদেশের তিন জন মন্ত্রী ও তিন জন সচিবের উপস্থিতিতে তাইওয়ানের কাছ থেকে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় মেডিক্যাল সামগ্রী উপহার হিসাবে গ্রহণ করায় ‘হতাশা’ প্রকাশ করে চীন।

গত ৩১ আগস্ট ২০২০ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক চিঠির মাধ্যমে এই হতাশা প্রকাশ করে চীনের দূতাবাস। চিঠিতে বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনেক গভীর জানিয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাইওয়ানের সঙ্গে ‘অনানুষ্ঠানিক (আনঅফিসিয়াল)’ সম্পর্ক রাখার বিষয় উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তারা চিঠি দিয়ে এবং টেলিফোনের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে বাংলাদেশ ওয়ান চায়না নীতিতে বিশ্বাস করে।’

বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেকোনও সরকারি কর্মকর্তাদের তাইওয়ান, কাশ্মির, দালাই লামা, তিব্বত- এই শব্দগুলি উচ্চারণ করার আগে চিন্তা করা দরকার এর প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে।’

এর আগে গত ২৪ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের উপস্থিতিতে তাইওয়ান এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এই মেডিক্যাল সামগ্রী দেয়। এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. নূর-উর-রহমান বক্তব্য রাখেন।

তাইওয়ান এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এক লাখ সার্জিক্যাল মাস্ক, ১৬০০ এ-৯৫ মাস্ক, ২০ হাজার কাপড়ের মাস্ক, ১০ হাজার ফেস ফিল্ড, ৫০০ পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী), ২০০ গগলস এবং দুই সেট ভেন্টিলেটর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘উপহার নেওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। এ বিষয়ে করনীয় কী সেটির জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। যাতে করে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে এড়িয়ে চলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।’

এর আগে গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাইওয়ানের কাছ থেকে উপহার নেওয়ার বিষয়টি মধ্যস্থতা করেছে ওয়ালটন এবং তাদের মাধ্যমে এটি এসেছে। এটি একটি খুব সাধারণ একটি উপহার। এটির সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।’

 

উপরে