আপডেট : ৬ নভেম্বর, ২০১৬ ০৯:৩৩

প্রাইভেট কার কেনায় নিয়ন্ত্রণ আসছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রাইভেট কার কেনায় নিয়ন্ত্রণ আসছে

ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের গাড়ি নিবন্ধনের বিষয়টি সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠানে কতগুলো গাড়ি কেনা হবে তাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রেখে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৬-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সরকার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মোটরযান নিবন্ধনের সংখ্যা নির্ধারণ করতে পারবে। গত ১৯ অক্টোবর থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সর্বসাধারণের মত নিতে খসড়া আইনটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো মতামত নেওয়া হচ্ছে। আইনে গাড়ির নিবন্ধন ছাড়াও চালকের লাইসেন্সসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সড়কে তীব্র যানজট হয়—বিশ্বের এমন ১০ নগরীর তালিকায় ঢাকাও আছে। যানজটের কবলে পড়ে দিনে গড়ে কমপক্ষে ৮৩ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এখানে। এর বড় কারণ ব্যক্তিগত গাড়ির নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার। ছোট ছোট ব্যক্তিগত গাড়ির নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারে ঢাকায় যথেষ্ট পরিমাণে বাস-মিনিবাস নামাচ্ছেন না মালিকরা। তাঁদের মতে, যানজটে গাড়ি চলাচলের গতি কমে যাওয়ায় গণপরিবহনের ট্রিপ আগের চেয়ে অর্ধেকে নেমেছে। এতে আয়ও কমে গেছে। 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুসারে, সারা দেশে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছে ১০ লাখ ৩০ হাজার ৮৬৪টি বিভিন্ন ধরনের গাড়ি। তার মধ্যে প্রাইভেট কার নিবন্ধিত হয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ৬৫টি। এর মধ্যে ঢাকায় নিবন্ধিত প্রাইভেট কারের সংখ্যা দুই লাখ ৩৭ হাজার ১৮০টি। হিসাব অনুযায়ী, দেশের সব প্রাইভেট কারের মধ্যে ৭৮ শতাংশই ঢাকায় নিবন্ধিত হয়েছে। 

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরীতে বসবাসরত পরিবারগুলোর একটি বড় অংশের সদস্যরা জনে জনে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাইভেট কারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় নগরীতে যানজট প্রকট হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন মহল থেকে ইতিমধ্যে সিএনজির ব্যবহার বন্ধ, পার্কিং চার্জ বাড়ানো, পরিবার প্রতি গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সুপারিশ কাজে লাগেনি। ব্যাংকের ঋণনীতি শিথিল থাকায় প্রাইভেট কার কেনাও সহজ হয়ে ওঠে। 

পরিবহন বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক  বলেন, ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা বিশৃঙ্খলতর হয়ে ওঠার বড় কারণ নিয়ন্ত্রণহীন ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার। 

বিশেষজ্ঞ আবু নাসের খান বলেন, প্রাইভেট কার কম যাত্রী নিয়েও রাস্তার বেশি জায়গা দখল করে। সে তুলনায় বাস বা মিনিবাস বেশি যাত্রী পরিবহন করে। বেশি প্রাইভেট কারের জন্য পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। দেশে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থাই নেই।  

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ২২ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন আইনে ব্যক্তিগত ও পরিবার প্রতি গাড়ি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন। বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, গাড়ির ব্যবহার সীমাবদ্ধ করতে হবে, আইনে বাধ্যবাধকতা থাকবে। দুর্ঘটনা, যানজট, নিয়মভঙ্গে কড়াকড়িভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। এ অবস্থায় গাড়ি কেনায় সরকারের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি রেখে খসড়া আইন প্রকাশ করা হয়েছে। 

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা আনতেই এ আইন করা হচ্ছে।

সূত্র: কালের কন্ঠ

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে