আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২১:০৭

‘ভিডিও কলে আসো, দেখো কিভাবে মরি’

অনলাইন ডেস্ক
‘ভিডিও কলে আসো, দেখো কিভাবে মরি’

মেহজাবিন মাহমুদ। এই মেয়েটির জীবন ছিলো বেপরোয়া ও অস্বাভাবিক। বহু প্রেমে বিশ্বাসী। অর্থাৎ সকালে একজন বয়ফ্রেন্ড, দুপুরে অন্যজন, রাতে আরেকজন টাইপ। মেয়েটি প্রেম সম্পর্ক গড়তে বেছে নিত সমাজের উচ্চ-মধ্যবিত্ত এবং উচবিত্ত ছেলেদের। এরপর তাদের কাছ থেকে নিজের স্বার্থ হাসিল করে তাদেরকেই অপদস্ত ও হেনস্ত করতো।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, ইনসটাগ্রাম, হোয়াটস অ্যাপ, স্ন্যাপ চ্যাট থেকে শুরু করে সব মাধ্যমেই ছিল তার অবাধ বিচরণ।

খুব একটা খোলামেলা বা আপত্তিকর ভঙ্গিতে ছবি পাওয়া না গেলেও ক্লিভেজ ছবি পাওয়া যেতো মাঝে মাঝেই। পরে আবার সেটা ডিলিটও করে দিত সে। খোলা মেলা পোশাক পরত, স্টাইল করতো, ফ্যাশন করে নিজেকে পরিপাটি রাখত।
ঘাড়ে ট্যাটু করা, আর সেটা দেখিয়ে চলতে সে ভালোবাসত। খোলামেলা চলত তার টার্গেট করা উচ্চ-মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেদের সঙ্গে।

ভিকারুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী সে। তাকে অধিকাংশ সময় বেইলি রোডে দেখা যায়। এছাড়া খিলগাঁও, বনানী ও গুলশানেও তাকে মাঝে মাঝে দেখা যায় বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে।

স্কুল,কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের কাছে বেশ পরিচিত মুখ মেহজাবিন। সবাই তাকে চেনে, তবে ভালো মেয়ে হিসেবে নয়। প্লে-গার্ল হিসেবে।

এতকিছুর পরেও লাবিব নামের ছেলেটি তাকে মনে-প্রাণে ভালোবেসেছিল। জীবনও দিয়েছে মেহজাবিনের জন্য।

লাবিব ছিলো উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। মেহজাবিন লাবিবকে টার্গেট করে প্রেম সম্পর্ক গড়ে তোলে। লাবিব মেয়েটিকে ভালবাসতো যেহেতু তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিলো। মেহজাবিনকে অনেক কেয়ারিং করতো লাবিব।

৬/৭ মাসের গভীর প্রেমে মেহজাবিন একরকম মায়াজালে আটকে ফেলেছিল লাবিবকে। লাবিবও চেয়েছিলো মেহজাবিন যেমনি পূর্বে ছিলো তা মেনে নিয়ে সম্পর্কটা ঠিক রাখা। মেহজাবিনকে ভালোবাসার মাধ্যমে সংশোধন করে নতুন জীবন শুরু করা।

কিন্তু যা ঘটলো তা সম্পূর্ণ বিপরীত। মেহজাবিন লাবিবকে শান্তিনগরের স্কাইভিউতে ডাকে। মা বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যায় লাবিব। সেখানে মেহজাবিন তাদেরকে ফাঁদে ফেলে এবং আগে থেকে তার নিয়োগ করা ২০/২২ জন উশৃঙ্খল ছেলেপেলেদের দিয়ে লাবিব ও তার মা-বাবাকে ভিষণ অপদস্ত করে। এমনকি লাবিবকেও মারধরও করে তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে গেলে হোটেল কর্তৃপক্ষ তা কোনোরকমে সামাল দেয়। এরপর লাবিবরা চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে যায়।

রাতে লাবিব ঘুমানোর জন্য দরজা বন্ধ করে। পরে লাবিবকে ডাকলে আর দরজা খুলেনি সে। পরে দরজা ভেঙ্গে লাবিবের পিতা-মাতা দেখলো তাদের আদরের সন্তান আর দুনিয়াতে বেচে নেই। মেহজাবিনের দেওয়া অপমান ও অপদস্ত সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে লাবিব।
একটা ছেলের সাথে ভালোবাসার খেলা খেললো, গভীর সম্পর্ক তৈরী করলো, মা-বাবা সহ দেখা করতে চাইলো, তাদের ডেকে নিয়ে গুন্ডা দিয়ে মারধর করলো, অপমান করলো এইসব কিছুর পর আর কী আশা নিয়ে বেচে থাকা যায়? লাবিবও তাই আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছে।

আত্মহত্যার আগে ম্যাসেঞ্জারে মেহজাবিনের সঙ্গে কথা বলেছে লাবিব। সেখানে লাবিব বলেছে- “গুডবাই ফর এভার। যা করলা সারা জীবন মানুষ মনে রাখবে। আজকে কেন এমন করলা, আমাকে মার খাওয়াইতে ডাকছো। ভিডিও কলে আসো দেখো আমি কিভাবে মরি।” যে ফাঁসে ঝুলে জীবন দিয়েছে লাবিব তার একটা ছবিও মেহজাবিনকে পাঠিয়েছে সে।

লাবিব তো চলে গেছে, কিন্তু মেহজাবিনদের মতো ছলনাময়ীর ফাঁদে পড়ে আর যেন কোন লাবিবকে এমনভাবে অকালে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে না হয়। আর যেন কোন বাবা-মার বুক খালি না হয় সেজন্য মেহজাবিনের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আর লাবিবদেরও এই ধরণের ছলনাময়ী মেয়েদের থেকে সতর্ক থাকা দরকার।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে