আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৬:৫১

পাপিয়া কাণ্ডে ফেঁসে যেতে পারেন যারা

অনলাইন ডেস্ক
পাপিয়া কাণ্ডে ফেঁসে যেতে পারেন যারা

যুবলীগের ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার ক্যাসিনোকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই দলটির স্থানীয় পর্যায়ের নেতবৃন্দর নতুন কে’লেঙ্কারি জনসম্মুখে এসেছে। বাংলাদেশ মহিলা যুবলীগের এক স্থানীয় পর্যায়ের নেত্রীর অ’পকর্মের খবর আজ সারাদেশে তোলপাড় ফেলেছে।

র‌্যাব তাকে গতকাল আটক করেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দলের ভিতর শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে। এই সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মতিঝিল ক্লাব পাড়ায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ক্যাসিনো সামগ্রী উদ্ধার করেছে। এর পরপরই যুবলীগ নেতা খালেদ হোসেন ভুইয়া, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল যুবলীগের চেয়ারম্যান, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কিচু গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে শুদ্ধি অভিযানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। যারা দলের বিতর্কিত, দলের পরিচয় ব্যবহার করে নানা রকম অপকর্ম করছে তাদেরকে দলে স্থান না দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন।

এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম সদ্য বহিষ্কৃত যুব মহিলালীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। রাজনীতির আড়ালে মাদক ও নারী বাণিজ্য করেন তিনি। রাজধানীর তারকা হোটেলগুলোতে আয়োজন করতেন পার্টির। সাপ্লাই দিতেন নারী। এসকর্ট সার্ভিস। সুন্দরী তরুণীদের চাকরি দেয়ার নামে নরসিংদী থেকে ঢাকায় নিয়ে আসতেন। তারপর তাদের জিম্মি করে দিনের পর দিন করাতেন দে’হ ব্যবসা। পাপিয়াকে আটকের পর থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক মাথা ঘুরিয়ে দেয়া খবর।

নরসিংদী জেলা যুব মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়ার আমলনামা প্রকাশের পর সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাকে। তার কু’কর্মের ভিডিও ক্লিপ রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। কী আছে এসব ভিডিও ক্লিপে? তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী ও ঢাকার অনেক তরুণীদের চাকরির নামে তারকা হোটেলে ডেকে নিতেন পাপিয়া। পার্টি গার্ল হিসেবে ব্যবহার করতেন তাদের। তারপর টাকার প্রলোভন দেখিয়ে অনেকের শ’য্যা সঙ্গী করতে বাধ্য করতেন।

জানা গেছে পাপিয়া কান্ডে ফেঁসে যেতে পারেন অনেক নেতাকর্মী।রীতিমতো আঙ্গুল ফুলে বটগাছ হয়েছিলেন নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়া। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় তাকেসহ চারজনকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)।

এরপর থেকেই পাপিয়ার উত্থানের অজানা অনেক রহস্য বেরিয়ে আসছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলাবলি হচ্ছে, হাইব্রিড পাপিয়ার রাজনীতিতে মূল শেল্টার ছিলেন নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদরের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম হিরু।

কেন্দ্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দেন ওই সংসদ সদস্যই। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে তাদের নাম ভাঙিয়ে আরও নানা অপকর্ম শুরু করেন পাপিয়া। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের গুরুত্বপূর্ণ এক নেত্রীর সঙ্গেও দহরম-মহরম সম্পর্ক ছিল পাপিয়ার। ফলে সবাইকে ‘ডেম কেয়ার’ করতেন। এসব নিয়ে গোটা নরসিংদীতে এখন চরম সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এসব বিষয়াদির সত্যতা মেলে নরসিংদী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভুইয়ার কথাতেও। দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিককে পাপিয়া ইস্যুতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজ সংগঠনের সভাপতি ও সদরের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম হিরুর প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন।

আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, পাপিয়া কান্ড নিয়ে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সাথে কথা হয়েছে ,তিনি বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করবেন । যে বা যারা তাকে নেত্রী বানিয়েছেন তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলে জানান ঐ নেতা ।আর এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি হয়েছে যুব মহিলা লীগের নেতিবাচক সমালোচনা ।

নাজমা কাউসার নামে একজন লিখেন , দেশ জুড়ে দুশ্চরিত্র নেতারা চিহ্নিত পতিতাদের রাজনৈতিক রক্ষিতা করে পুনবার্সিত করেছে “যুব মহিলা লীগে। সংগঠনটি বিলুপ্ত করা হোক । শফিকুল ইসলাম কাজল লিখেন , অপকর্মের জন্য ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার পদ যায়, যদি স্বেচ্ছাসেবক লীগের মোল্লা আবু কাউছরের মত ত্যাগী নেতা ক্ষমা না পায়,তাহলে যুব মহিলা লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব কেনো ,কীভাবে বহাল তবিয়তে থাকে ! দোষী কী এরা শোভন-রাব্বানী,মোল্লা কাউসার-পঙ্কজ দেবনাথের চেয়ে কম ! জানতে মন চায় ।

মাহফুজ আহমেদ ভূইয়া লিখেন , সম্রাট খালিদের যারা নেতা বানিয়েছিল তারা নেতৃত্বে থাকতে পারে নাই । একই যুক্তিতে পাপিয়াকে যারা নেতা বানিয়েছে তারা দলে থাকে কীভাবে? যুব মহিলা লীগের শীর্ষনেতৃত্বকে অব্যহতি দেয়া হোক ।যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার জানান, ব্যক্তির দায় সংগঠন নিবে না।সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা অপু উকিল বলেন , এ সকল সমাজের কীটদের অ’পকর্মের দায় সংগঠন কখনোই নিবে না । এদর কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি ।

যুব মহিলা লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন জানান,আমি ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি, জেলা কমিটি দেয়ার এখতিয়ার আমি রাখি না। যারা তাকে নেতৃত্বে এনেছে তারা তার ব্যাপারে জবাবদিহি করবে। আমি তীব্র নিন্দা জানাই, আমার বিরুদ্ধে যারা উদ্দশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, পাপিয়ার সাথে আমার কোন গাড়ির ব্যবসা বা অন্য কোন ব্যবসা নেই। এসব আগামীতে যুব মহিলা লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত।

আমার স্বামী একজন ক্লিন ইমেজের ব্যবসায়ী। যারা এগুলো করাচ্ছে সে নেত্রীদের পরিবার কে কি ব্যবসা করে সে ফাইল তলব করা হোক। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করবো রিমান্ডে নিয়ে বের করা হোক পাপিয়া বা তার স্বামীর সাথে কে কে জড়িত? কেউ মানুষের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। তাই সে যেহেতু জেলার সাধারণ সম্পাদক আর সে যেহেতু ঢাকা থাকতো তাই পিকনিকে অপুদির মাধ্যমে দেখা হলে সে নিজে থেকে আমার বিভিন্ন কর্মসূচিতে আসত।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে