আপডেট : ২১ জুন, ২০২০ ১৯:৪৩

এটিই পৃথিবীর আকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এটিই পৃথিবীর আকাশ

আকাশের একটি যুগান্তকারী মানচিত্র ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে একটি জার্মান-রাশিয়ান স্পেস টেলিস্কোপ। এক্স-রে'র মধ্যে রীতিমতো স্বর্গের দৃশ্য আবিষ্কার হয়েছে মানচিত্রটিতে। ছবিটিতে নভোমণ্ডলের তীব্র অনেক বস্তুগত প্রতিক্রিয়াকে রেকর্ড করেছে, যেখানে পদার্থগুলো দ্রুত গতি, উত্তপ্ত হওয়া এবং সংকুচিত হওয়ার মতো বিষয়গুলো দেখা গেছে।

ব্ল্যাকহোলগুলোর অন্যান্য বস্তু আহরণ, তারার বিদীর্ণ হয়ে যাওয়া এমনকি উত্তম গ্যাসের শিখাও উঠে এসেছে নৈসর্গিক মানচিত্রটিতে। মহাকাশ পর্যবেক্ষণে উচ্চশক্তির স্যাটলেইট স্পেক্ট্র-আরজি এই অসাধারণ মানচিত্রটি ধারণ করে।

মানচিত্রটির আইটফ প্রজেকশন থেকে দেখা যাচ্ছে,  আকাশের গোলাকার পরিমণ্ডলটিকে এটি উপবৃত্তাকারে প্রকাশ করেছে। মাঝখানে জুড়ে ব্যান্ডটি হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সমতল, উপবৃত্তের মাঝখানে রয়েছে গ্যালাক্সির কেন্দ্র।

রাশিয়া ও জার্মানির যৌথ উদ্যোগে  ২০১৯ সালে ১৩ জুলাই স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। পৃথিবী থেকে দেড় মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে একটি অবস্থান থেকে মহাকাশকে পর্যবেক্ষণ করছে স্পেক্ট্র-আরজি।

উৎক্ষেপিত হওয়ার পর প্রস্তুত হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নেয় এটি, সেইসঙ্গে মহাকাশ পর্যবেক্ষণে এটি যাবতীয় কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার ঘোষণা আসে। স্যাটেলাইটটি ধীরে ধীরে ঘুরতে থাকে এবং মহাকাশের গভীরতা স্ক্যান করতে থাকে।

আকাশের যাবতীয় তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করে স্যাটেলাইট। গত সপ্তাহে পুরো কাজটি শেষ হয়। এক্স-রে'র দশ লাখেরও বেশি উৎস এটি রেকর্ড করেছে এটি।

স্যাটেলাইটটিকে পর্যবেক্ষণ করা জার্মানির ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর এক্সট্রাটারেস্ট্রিয়াল ফিজিক্সের (এমপিই) একটি দলের প্রধান ক্রিপাল নন্দ্র বলেন, ৬০ বছরের পেছনে চলে যাওয়ার মতো এক্স-রে জোতির্বিদ্যার পুরো ইতিহাস জানতে আমরা একই সংখ্যার সন্ধান পেয়েছি। ছয় মাসের মধ্যে আমরা জানা উৎসগুলো আরও দ্বিগুণ করতে সক্ষম হয়েছি।   

তিনি বলেন, এই সব ডেটা সত্যই অবাক করে দেয়ার মতো এবং আমি মনে করি আমরা এখানে যা করছি তা এক্স-রে জ্যোতির্বিদ্যায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে